সড়ক দূর্ঘটনা; ২০১১ সালের আলোচ্য বিষয়


2016-12-16 15:47:01 41 0

বাংলাদেশের ৩,৪৯২ কিলোমিটার লম্বা জাতীয় রাজপথ এবং ৪,২৬৮ কিলোমিটার দৈর্ঘের আঞ্চলিক পথ অনেক ভ্রমণকারীর জন্যে মরন ফাঁদ হয়ে দাড়িয়েছে বিভিন্ন কারনে। পরিসংখ্যান বলে যে দেশে প্রতি বছর ২০,০০০ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৪,০০০ লোক মারা যায়।

গত মাসে জাতি তাদের প্রিয় দুই সন্তান - পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচিত্র নির্দেশক তারেক মাসুদ আর আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ক্যামেরাম্যান/টেলিভিশন সাংবাদিক আশফাক মুনির মিশুক এর মৃত্যুর খবর শুনে হতবাক হয়ে যায়। তারা ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট তারিখে মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফেরার পথে ঢাকা - আরিচা মহাসড়কে মর্মান্তিক এক সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যান। যাত্রীবাহী একটা মিনিবাস তাদের মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দিয়ে সেটা দ্বিখণ্ডিত করে ফেলে যার ফলে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত আর বেশ কয়েকজন আহত হন। তারেকের যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী স্ত্রী ক্যাথেরিন মাসুদও এই দূর্ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হন।

এই দেশের একজন প্রকৃষ্ট চলচিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ; ‌এবং প্রতিভাবান ক্যামেরাম্যান আর মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মিশুক মুনির, যার স্বপ্ন আর ক্ষমতা ছিল রিপোর্টিং এর ধরন পাল্টিয়ে দেয়ার, মর্মান্তিকভাবে মারা যান তাদের নতুন চলচ্চিত্রের চিত্রগ্রহণের স্থান ঠিক করে ঢাকায় ফেরার পথে।

তারেক মাসুদের প্রথম পূর্ণ দৈর্ঘ চলচিত্র মাটির ময়না (The Clay Bird) ২০০২ সালে কান ফিল্ম উৎসবে আর্ন্তজাতিক সমালোচক পুরষ্কার পায়। এটা অন্যতম একটা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ছিল যেটা আন্তর্জাতিক প্রচারণা পেয়েছিল।


The Public Posts সড়ক দূর্ঘটনা; ২০১১ সালের আলোচ্য বিষয়


এটিএন সংবাদের সিইও আশফাক (মিশুক) মুনির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষক হিসাবে কাজ শুরু করেন এবং পরে আন্তর্জাতিক মিডিয়া যেমন বিবিসি ওয়ার্ল্ড, ডিসকভারি চ্যানেল, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক আর দ্যা রিয়াল নিউজ এ কাজ করেছেন। তিনি একজন বিশিষ্ট চিত্রগ্রাহক ও ছিলেন আর তারেক মাসুদের অনেক চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন।Road-Accident-in-Bangladesh

ঢাকা ডুয়েলার ব্লগের শাহনাজ বাংলাদেশের মহাসড়কের খারাপ অবস্থা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের যে কটা জিনিষ আমাকে ভাবায়, সেই তালিকার উপরে আছে রাস্তার নিরাপত্তার অভাব। খারাপ রাস্তার অবস্থা,পুরানো যানবাহন, অযোগ্য চালক আর খারাপভাবে গাড়ি চালানো আমাদের সড়ককে মরন ফাঁদে পরিণত করে- শহরের রাস্তা আর মহাসড়ক দুইটাই। এমন দিন যায়না যখন আমরা কোন সড়ক দুর্ঘটনার কথা শুনি না যেখানে একাধিক জীবন যায়না। আর বর্ষার সময় এটা আরো খারাপ হয়, যখন প্রচন্ড বৃষ্টিপাত পরিস্থিতি খারাপ করে। তিনি আরো বলেন, আমাদের রাজনৈতিক নেতারা নীতি অনুযায়ী এইসব দুর্ঘটনায় দুখ প্রকাশ করেন, বিদেহী আত্মার জন্য প্রার্থনা করেন আর শোকাহত পরিবারের জন্য সমবেদনা জানান। দোষীদের শাস্তি দেয়ার ফাঁকা কথা দেয়া হয় আর বাস আর ট্রাফ চালকরা সব সময় কি করে যেন পালিয়ে যেতে সমর্থ হয় আর আইন প্রয়োগকারী এজেন্সিদের ফাঁকি দিতে পারে)। মাঝে মাঝে দূর্ঘটনা তদন্তের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। জনগণ কখনো এই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জানতে পারে না, আর আমার সন্দেহ আছে যে সরকার তাদের পরামর্শ গ্রাহ্য করে- যদি কোন করা হয়।

আসিফ আনোয়ার মনে করেন যে বাংলাদেশে রাস্তার মোড়ের কাছে গাছ যা দৃষ্টিকে আড়াল করে তা দুর্ঘটনার কারন হতে পারে।

তবে ডেইলি স্টারের সাম্প্রতিক একটা প্রতিবেদনে জানা গেছে যে মহাসড়কে আইন ভাঙ্গাই হচ্ছে এখনকার নতুন আইন। আর অপরাধীরা শাস্তির ভয়ে থামে না- একজন চালককে মাত্র ৫ বছরের জেল হতে পারে কাউকে রাস্তায় মেরে ফেলার জন্য।

ফারুক ওয়াসিফ তার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশে পথের নিরাপত্তার অভাব আর কর্তৃপক্ষের উদাসিনতার ব্যাপারে। তিনি বলেন, সড়কগুলো অপঘাতের জন্য সদাপ্রস্তুত। যানবাহন দুর্ঘটনামুখী, চালকেরা কেয়ারলেস। দেখার কেউ নাই, ব্যবস্থা নাই, শাস্তি নাই। মানুষ মরছে, কিন্তু কোনো জবাবদিহি নাই। জাতি নামক গাভী দোহনে ব্যস্ত শাসকেরা। কিছুতেই তাদের কিছু এসে যায় না। তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এই পোড়ার দেশে কিছুই তাই দাঁড়ায় না। কম মানুষই যাত্রা শেষ করতে পারে। তার আগেই মৃত্যু এসে নিয়ে যায়। বিকাশের ধারা অজস্র যতিতে ছারখার। নৈরাজ্য, অপঘাত, আত্মঘাত আর অবসাদে শেষ হয়ে যাচ্ছি আমরা। আমাদের আত্মবিশ্বাস বারবার তলানিতে চলে যায়। আশার সমাধিতে আমরা অপেক্ষা করি। ব্লগার আর কার্টুনিস্ট সুজন চৌধুরীর কাছে একটাই প্রশ্ন - “আর কত?

প্রসঙ্গ :
সড়ক দুর্ঘটনা

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Name*

Web

Email*