বিআরটিএ এর ঘুষ সংস্কৃতি এবং একজন সাংবাদিক


2016-12-16 15:51:50 27 0

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একজন সাংবাদিক পা হারালেন। জবাবে ভাংচুর, অগ্নি সংযোগ, বিরোধী জোটের ফায়দা লোটার চেষ্টা ইত্যদি ইত্যাদি। পরের দিন গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার সময় মা ডেকে বললেন তোর ড্রাইভিং লাইসেন্স ঠিক আছে তো? এখন তো লাইসেন্স না থাকলে এক মাসের জেল। শুনে চমকে উঠলাম। পরে জানলাম ঘঠনার পর প্রশাসন থেকে কড়া নির্দেশ দেয়া হয়েছে, মোবাইল কোর্ট বসিয়ে লাইসেন্স চেক করা হচ্ছে। প্রেস ক্লাবের সামনে সড়ক দুর্ঘটনার পর সাংবাদিকরা সড়ক অবরোধ করেন।

বিটিভির একটি প্রতিবেদন দেখলাম। সেখানে এক রিপোর্টার ফুটবল খেলার ধারাভাষ্য দেবার মত করে বলে যাচ্ছে ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে ড্রাইভারদের এক মাস করে জেলের সাজা দেওয়া হচ্ছে। এতে নাকি ট্রাফিক সমস্যার অনেক উন্নতি হবে, ভুয়া ড্রাইভার থাকবে না, সড়ক দুর্ঘটনা হবেনা। হুম....গাছের গোড়া কেটে মাথায় পানি দিচ্ছে। রিপোর্টটা পুরো দেখতে ইচ্ছে করল না। গা জ্বলছিল।


The Public Posts বিআরটিএ এর ঘুষ সংস্কৃতি এবং একজন সাংবাদিক


যারা গাড়ি চালান তারা সবাই জানেন বিআরটিএ’র বেহাল অবস্থা এবং ঘুষ সংস্কৃতি সম্পর্কে। অন্য সবার মত আমার নিজের গাড়ির লাইসেন্সও ঘুষ দিয়ে করা। দিতে বাধ্য হতে হয়। এখানে কোন আইন নাই। পুলিশ, প্রশাসন সবাই মনে হয় আইনের উদ্ধে। ঘুষ না দেয়াটাই বিব্রতকর। কারণ ঘুষ না আপনার কোন কাজেই তারা হাত দিবে না। আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স এ জীবনে আর পাওয়া হবে না। বিশ্বাস না হলে পরখ করে দেখতে পারেন। লাইসেন্স পাওয়ার জন্য কাগজে কলমে যেখানে খরচ হওয়ার কথা ১০০০ টাকার মত সেখানে পরীক্ষায় পাশ করেও আপনাকে দিতে হবে ৭-৮ হাজার টাকার মত।

ঢাকার রাস্তারয় যারা লোকাল গাড়ি, টাক্সি বা সিএনজি চালায় তাদের পক্ষে এই টাকা জোগাড় করা অনেক কঠিন হয়ে পরে। তখন সে কয়েক হাজার টাকা বাঁচানোর জন্য নকল লাইসেন্স বের করে। কোন কোন ড্রাইভার কিছু না শিখেই বা কারো কাছে কোন রকম হাতেখড়ি নিয়েই রাস্তায় গাড়ি নামায়। ফলে যা হবার তাই হয়। এখন আসল জায়গায় সংশোধনের কোন উদ্যোগ না নিয়ে লোক দেখানো আর মিডিয়াকে ফাঁকি দেয়ার জন্য রাস্তায় রাস্তায় মোবাইল কোর্ট বসিয়ে এসব ড্রাইভারদের সাজা দেয়া কতখানি সঠিক তা ভাবার বিষয়। কেন এসব মোবাইল কোর্ট বিআরটিএ যায় না, তারা কি জানেনা কিভাবে কি হয়? এসব দুর্ঘটনার সূত্র কোথায়? তারা সবাই জানে কিন্তু কিছু করার নেই। সেখান থেকে মোটা অংকের কমিশন আসে।

যেন এসবের কোন সমাধান নেই। এভাবে রাস্তায় মরতেই থাকবে। মিশুক মনির, তারেক মাসুদরা প্রাণ দিয়ে যাবে। সাংবাদিক নিখিক ভদ্ররা পা হারাবেন। কিছুদিন মিডিয়ার গরম খবরের খোরাক জুটবে। সুশীল সমাজ লেখালেখি করবে, আন্দোলন করবে আবার অদৃশ্য শক্তির মাধ্যমে সব ঠাণ্ডা হয়ে যাবে।

প্রসঙ্গ :
সড়ক দুর্ঘটনা

businessপ্রতিষ্ঠান :
বিআরটিএ

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Name*

Web

Email*