ফেসবুক আজ ছিল তাজউদ্দিন আহমেদের


2017-01-14 13:36:26 118 0

আজ ছিল বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদের জন্মদিন। মনে হল যেন ফেইসবুক আজ তার দখলে ছিল। সবাই ভুলেনি বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। ইতিহাস কখনও মিথ্যে হতে পারে না। ইতিহাসকে কখনও বদলানো যায়না। যারা চেষ্টা করে তারা ব্যর্থ হয়। আজকের ফেসবুক থেকে সেই ইতিহাসের কিছু চৌম্বক বাণি-বন্দনা এখানে একত্র করার চেষ্টা করা হলো।

শাহেদ কায়েস লিখেছেন আজ বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ৮৭তম জন্মবার্ষিকী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্ব আর তাজউদ্দীন আহমদের সাংগঠনিক দক্ষতা বাংলার মুক্তিসংগ্রামী মানুষকে যুদ্ধজয়ে উজ্জীবিত করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের। বাংলাদেশের মাটিতে তাজউদ্দীন আহমদের মত সৎ, নির্ভীক, প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষের জন্ম হোক লক্ষ কোটি বার... তোমায় স্যালুট হে বীর।


The Public Posts ফেসবুক আজ ছিল তাজউদ্দিন আহমেদের


আসিফ এন্টাজ রবি লিখেছেন আমাদের দেশে খোন্দকার মোশতাকরা বেশ ভালো থাকেন। জীবনভর মিষ্টি মিষ্টি কথা বলেন, হাত কচলান, তেল ছড়ান এবং ঠিক সময়মতো পিঠে ছুরি মেরে বসেন। কিন্তু যিনি নিজের বিবেক দ্বারা চালিত হোন, যিনি সত্যিকারের বিশ্বস্ত, যিনি হিতাকাঙ্খী, যিনি মেধাবী, তিনি জীবনভর দুর্ভোগ পোহান। এর নাম বাংলাদেশ। এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি। তাজউদ্দিন আহমেদ সেই দুর্ভাগা একজন মানুষ। বঙ্গবন্ধু এবং তাজউদ্দিনের মেলবন্ধন টিকে থাকলে, বাংলাদেশ বেঁচে যেত। কিন্তু ইতিহাস বলে, বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করেছিলেন মোশতাককে। এর তাৎক্ষণিক ফল হয়েছিলো বঙ্গবন্ধুর সপরিবারের নৃশংস মৃত্যু। দীর্ঘমেয়াদী ফল হচ্ছে, আজকের অশান্ত, দিকভ্রান্ত এবং ভারসাম্যহীন বাংলাদেশ। তাজউদ্দিনকে দূরে ঠেলে না দিলে বঙ্গবন্ধু বাঁচতেন, দেশটাও বাঁচতো। হায় বাংলাদেশ, হায় বাংলাদেশ, হায় বাংলাদেশ।

মূসা ইব্রাহীম লিখেছেন

প্রেক্ষাপট ১::

ক্যাডা এই তাজুদ্দিন?

মলো, মারদাঙ্গা সিনেমার ভিড়ে (ভাঁড়ে) এইডি আবার কোন সিনেমা?

প্রেক্ষাপট ২::

তাজউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন "মুছে যাক আমার নাম, তবু বেঁচে থাক বাংলাদেশ"।

সত্যিই তো এই বাংলাদেশ বেঁচে(?!) আছে, কিন্তু মুছে গেছে তাজউদ্দিন আহমেদ আপনার নাম।।

বাংলাদেশ সেই রাজনীতিবিদদের নাম মনে রাখে যাদের পরিবার আছে, দল আছে, সংগঠন আছে, বাহুবল আছে, সংবাদমাধ্যম আছে।

তাজউদ্দিন আহমেদ, আপনার কোন দল নেই; কিন্তু আপনি সমগ্র দেশজুড়ে, সকল জনগনের হৃদয়ে আছেন ।।

প্রেক্ষাপট ৩::

তাজউদ্দিন আহমেদ ঘটনাবলী (ব্লগ থেকে)::

১। ১৯৭০ সালে নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড়ের সময় (ডিসেম্বরে ছিল নির্বাচন) অনেক মানুষ তাজউদ্দিন আহমেদের বাসায় আশ্রয় গ্রহণ করেন । এমন সময় তাঁর বাড়ির জানালায় ঘূর্ণিঝড়ের কারণে একটা বুলবুলি পাখির মৃত্যু হয় । অন্ধকারে লুকিয়ে ক্রন্দনরত তাজউদ্দিন আহমেদকে তাঁর মেয়ে দেখে ফেলেন। ইহাহিয়ার বিরুদ্ধে সারাদিন আন্দোলনরত তাজউদ্দিন মেয়েকে কান্নাভেজা কন্ঠে বলেন, "আমার বাসায় এত মানুষের জায়গা হল, অথচ এই ছোট্ট বুলবুলি পাখিটার জায়গা হল না..."

২। ১৯৭১ সালে যখন ভারতে বসে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এবং দেশের শাসনকার্য নিয়ে ব্যস্ত, তখনকার ঘটনা । ঘড়ির কাটা ধরে অফিসে আসা তাজউদ্দিন সাহেব এসে দেখলেন, তাঁর পিয়ন তখনো আসেনি । তিনি থিয়েটার রোডের পিয়নের সেই বাসায় চলে গেলেন । তাঁর অন্য এক কর্মচারী অফিসে এসে, তাঁকে না পেয়ে সেই পিয়নের বাসায় গেলেন । গিয়ে দেখেন, বাসায় আর কেউ নেই, শুধু প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন সাহেব জ্বরে আক্রান্ত পিয়নের মাথায় বদনা দিয়ে পানি ঢালছেন । (আজকের দিনে আমরা আমাদের প্রধানমন্ত্রীদের কাছে এমন সামান্য সহানুভূতিও কি আশা করতে পারি?)

৩। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন আরেকটি ঘটনা। ডঃ আনিসুজ্জামান একদিন তাজউদ্দিন আহমেদের কাছে যান । তিনি গিয়ে দেখলেন, তাঁর চুল উস্কখুস্ক, চোখ লাল । বললেন, "আপনার শরীর খারাপ নাকি ?" তাজউদ্দিন সাহেব জবাব দিলেন, "গতরাতে শুতে যাওয়ার পর, হঠাত ঝড়ে আমার ঘরের জানালার একটা অংশ খুলে গেল, তখন মনে হল, এই ঝড়ে আমার ছেলেরা না খেয়ে না ঘুমিয়ে যদ্ধ করছে, আর আমি ঘুমাচ্ছি ? আমি রাতে আর ঘুমাতে পারি নাই..."

প্রেক্ষাপট ৪::

বঙ্গবন্ধু এবং তাজউদ্দিনের মেলবন্ধন টিকে থাকলে, বাংলাদেশ বেঁচে যেত।

কিন্তু ইতিহাস বলে, বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করেছিলেন মোশতাককে। মিষ্টি কথায়, হাত কচলিয়ে, তৈলাক্ত আচারে বঙ্গবন্ধুকে মুগ্ধ করে সময়মতো বাংলাদেশের পিঠে ছুরি মেরেছিলেন।

আর এর তাৎক্ষণিক ফল হয়েছিলো বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নৃশংস মৃত্যু। দীর্ঘমেয়াদী ফল হচ্ছে, আজকের অশান্ত, দিকভ্রান্ত এবং ভারসাম্যহীন বাংলাদেশ।

তাজউদ্দিন আহমেদকে দূরে ঠেলে না দিলে বঙ্গবন্ধু বাঁচতেন, দেশটাও বাঁচতো।

বাংলাদেশের ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতে পারতো যদি তাজউদ্দিন আহমেদকে তাঁর ইচ্ছেমতো কাজ করতে দেয়ার সুযোগ দেয়া হতো।

দুর্ভাগ্য আমাদের, আমরা আপনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো বাদে আর কিছুই করতে পারলাম না । আমাদের ক্ষমা করবেন।।

লেখাটি দ্যা পাবলিক পোস্ট -এ প্রথম প্রকাশিত হয় ২৩ জুলাই, ২০১৩

প্রসঙ্গ :
তাজউদ্দিন আহমেদ ফেসবুক

প্রাসঙ্গিক পোস্ট

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Name*

Web

Email*