তারপরও কি আমাদের ঘুম ভাঙ্গবে না?


2017-01-20 15:41:18 34 3

হত্যাকারী নিজে ফেলনীকে গুলি করে হত্যা করার স্বীকারোক্তি দিলেও বিএসএফের নিজস্ব আদালত তাকে নির্দোষ ঘোষণা করে। কি তামাশা। প্রতিবাদের প্রসঙ্গে পরে আসি। আগে কেন এমন রায় দেয়া হলো তা একটু বর্ণনা করি। ভারতের আইন অনুযায়ী নাকি কেউ রাতে বেআইনিভাবে সীমান্ত পার হলে তাকে গুলি করা জায়েজ আছে! সরকারের এই আইন অনুযায়ী আমরা যাকে অপরাধী বলে ধীক্কার জানাচ্ছি ভারত সরকার তাকে নির্দোষ বলবে এটাই তো স্বাভাবিক!

এ কি ধরণের আইন রে ভাই? ১৫ বছরের একজন কিশোরীকে কাটাতারে ঝুলন্ত অবস্থায় গুলি করে ঝুলিয়ে রাখা ভারত সরকারের আইন? শুনলাম ভারতেও নাকি অনেক মানবাধিকার সংগঠন আছে। তাদের মধ্যে মাসুম নামের একটি সংগঠন নাকি চরম প্রতিবাদ জানিয়েছে। আর বাকিগুলো কি ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় আদালতে মাছি মারছিল?


The Public Posts তারপরও কি আমাদের ঘুম ভাঙ্গবে না?


২০১১ সালের ৭ জানুয়ারির কথা। সকাল ছয়টার দিকে ১৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি ফেলানী খাতুন তার বাবা নুরুল ইসলামের সঙ্গে দিল্লি­ থেকে বাড়ির উদ্দেশে ফিরছিল। স্বামীর সাথে ঘর বাঁধার উদ্দেশ্যে। কোনো বৈধ পাসপোর্ট না থাকায় তারা দালালের সরণাপন্য হয়। সেই দালালের মাধ্যমে সীমান্তের কাঁটাতারের মধ্যে বাঁশের মই দিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করে। তার বাবা নুরুল ইসলাম কাঁটাতারের বেড়া পার হতে পারলেও আটকে পড়ে ফেলানী। ওই সময় টহলরত বিএসএফের কনস্টেবল অমিয় ঘোষ ফেলানীকে গুলি করে। কাঁটাতারে সঙ্গে গায়ে থাকা সোয়েটারে আটকা পড়ে ফেলানী। এরপর টানা ৪ ঘণ্টা কাঁটাতারে ঝুলে থাকার পর নামানো হয় ফেলানীর মৃতদেহ।

অপরাধ সনাক্ত না করেই কাউকে গুলি করে হত্যা করা কোন আইন হতে পারেনা। ঝুলে থাকা ফেলানী তো ফেলানী না। ও বাংলাদেশ। ফেলানী ঝুলছে না। ঝুলছে বাংলাদেশ। এই স্লোগান দিয়ে ছাপানো পোস্টারটি ঐ সময় আমাকে খুব ভাবিয়েছিল। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে অনেক তোলপার হয়েছে। কিন্তু প্রতিবাদের সেই ভাষাটা কি শুধুই পত্রপত্রিকায়, দেয়ালে, স্লোগানে কিংবা ফেসবুকে সীমাবদ্ধ থাকবে? ভারত কি এসব প্রতিবাদের মূল্য কোনদিনও দিবে? মনে হয় না। কারণ তারা জানে দেয়ালে চিকা মেরে ঘরে ফিরে আবার সেই ভারতীয় চ্যানেলই বাংলাদেশীকে দেখতে হবে। মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানিয়ে আবার ভারতীয় পণ্য কিনেই বাড়ি ফিরবে। অবস্থানগত দিক থেকে যেমন বাংলাদেশকে ঘিরে রেখেছে ভারত তেমনি আচার-সংস্কৃতি, ব্যবসা এমনকি রাজনীতিতেও প্রভাব বিস্তার করে আসছে ভারত।

ভারতীয় চ্যানেলগুলো কি আমাদের দেখতেই হবে? আমরা কি জানিনা যে তারা বছরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে যায় এসব চ্যানেলগুলো দিয়ে। ভারতীয় চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেখে পরেরদিন মার্কেটে গিয়ে গৃহিনীরা সেই পণ্য হন্নে হয়ে খোঁজে। এটাও যে তাদের চ্যানেল বাণিজ্যের একটা অংশ তা কি আমরা কেউই বুঝতে পারি না? যেসব নারীরা বিনোদনের উৎস হিসেবে এসব চ্যানেলের ত্যানা পেচানো স্কৃপ্টের সিরিয়াল দেখে আবার পরের দিন রিভাইস দেয় তাদের পায়ে ধরে অনুরোধ করব একটু সচেতন হবার। উচ্চ শিক্ষিত নারীরা যারা এসব নেহায়েত দুর্বল স্ক্রিপ্ট দিয়ে বানানো জমকালো মেকআপের হিন্দি সিরিয়াল দেখে পরের দিন অফিসে এসে তার জাবর কাটে তাদের হাত জোড় করে অনুরোধ করব এসব বন্ধ করুন। একবার ভেবে দেখুন এসব অসুস্থ বিনোদন আমাদের সমাজকে কোথায় নিয়ে গেছে? সাংসারিক কুটনামির এসব কলাকৌশল শিখে কোথায় তার প্রয়োগ হচ্ছে? পরকিয়া প্রেমের কাহিনী আর সাংসারিক কুটনামির পাশাপাশি বাহারি পোশাকের প্রদর্শনী কেন করা হচ্ছে একবার ভেবে দেখুন। কিভাবে প্রত্যেক ঈদে নায়িকাদের নাম দিয়ে ইণ্ডিয়ান শাড়ি বা ড্রেশ মূহুর্তেই বাজার দখল করে ফেলে। গত ঈদে শুনসিলাম সনি লিওনের নামে বাজারে পোশাক বের হয়েছে। একবার ভেবে দেখুন এর পরিণতি কি? আপনার বাচ্চা মেয়েটি যখন জিজ্ঞেস করবে সনি লিওন কে? তখন কি উত্তর দিবেন। নাকি উপসংহার সহ মেয়েটির কাছে বর্ণনা করবেন অ্যাবাউট সনি লিওন?

সুযোগ সন্ধানী ছাগু সম্প্রদায় একশ হাত দূরে থাকুন। এ লেখা আপনাদের পথ সুগোম করার উদ্দেশ্যে না। শাহবাগ যেমন করে জেগে উঠেছিল একদিন পুরো বাংলাদেশ ঠিক সেভাবে জেগে উঠবে। পুরো বাংলাদেশ হবে গণজাগরণ মঞ্চ। তখন একই সাথে ফাকিস্থানি প্রেতাত্না এবং ভারতীয় আগ্রাসন মুক্ত করার জন্য মঞ্চ তৈরি হবে।

আফসোস। আমাদের মস্তিস্ক গোল্ডফিসের মতো ভুলো মনা। সবকিছু ভুলে যাই। অথবা জেনেও না জানার ভান করে এগিয়ে চলি। এভাবে কতদিন? কেউ বলতে পারবে বাংলাদেশের কোন্ পণ্যটি ভারতের থেকে কম মানসম্পন্য। বাংলাদেশের পেয়াজ, আদা, রসুন থেকে শুরু করে অসংখ্য পণ্য যা আমরা ভারত থেকে আমদানি করি সেসব পণ্যের সাথে একবার বাংলাদেশের পণ্যের তুলনা করুন। বলিউডের সাড়াসাগানো চলচ্চিত্র দেবদাস -এর নায়িকার শাড়ি ক্রয় করা হয়েছিল টাংগাইল থেকে।

ফেলানী হত্যার বিচার নাকি পুনরায় শুরু করা হয়েছে। নতুন তামাশা দেখানোর আয়োজন চলছে। কোন দ্বিধা নাই। যে আদালত একজন মানুষকে গুলি করে মারে কাটাতারে ছুলিয়ে রাখার রায় দিয়েছিল বেকুশুল খালাস সেই আদালত কিভাবে এই মামলার বিচার করবে। যে আইন মানুষকে গুলি করে মারা সমর্ধন করে সেই আইন দিয়ে আবার কিভাবে এই বিচার হবে। গুরু পাপে লঘু দণ্ডের কোন দরকার নাই। বাংলাদেশের মানুষ যেরকম আবেগী আর এভাবে ইণ্ডিয়ান আগ্রাসন চলতে থাকলে ১৬ কোটি আবেগের হাওয়ায় ইণ্ডিয়া তুলাই মিসে যাবে। শুধু একবার ঐক্যবদ্ধ হলেই হয়।

প্রসঙ্গ :
ফেলানী হত্যা বিএসএফ ভারতীয় টিভি চ্যানেল

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Name*

Web

Email*