টেলিটক থ্রিজির নকল মডেম এবং একজন অ্যাতেল


2017-01-20 15:16:38 153 0

বাজারে টেলিটক থ্রিজির নকল মডেম বের হয়েছে। টেলিটক থ্রিজির ফ্ল্যাশ মডেমের সমমূল্যমানের মডেমটি তৈরি করেছে চীনের হুয়াই কোম্পানী। টেলিটকের বনানী অফিসে এই মডেম সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানেন না বলে এরিয়ে যান। তবে বাজারে যে এ ধরণের একটি মডেম পাওয়া যাচ্ছে সে বিষয়টি তারা নিশ্চিত করেছে। উল্লেখ্য মডেমটি ফ্ল্যাশ মডেমের সমান দাম হলেও এর গতি ও সেবার মান অত্যন্ত নিম্নমানের। এখন প্রশ্র হলো কি করে টেলিটক কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বাজারে এই মডেমটি এলো? কোন অসাধু ব্যাবসায়ী এই নকল মডেমটি টেলিটকের বলে যদি বাজারে ছাড়ে তাহলে কেনইবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এটি বন্ধের উদ্যোগ নিচ্ছে না?


The Public Posts টেলিটক থ্রিজির নকল মডেম এবং একজন অ্যাতেল


একজন ভুক্তভোগী ক্রেতা হিসেবে বলছি, গত জুলাই মাসে ক্লাসিকম ম্যাল্টিমিডিয়া (ক-২২, কালাচাঁদপুর, গুলশান) নামের একটি দোকান থেকে সিমসহ টেলিটকের একটি মডেম কিনি। কেনার সময় দোকানদারকে যখন জিজ্ঞেস করি যে এটি তো ফ্ল্যাশ মডেম না তখন তিনি জানান ফ্ল্যাশ তো নন ব্র্যাণ্ড মডেম আর এটি তাদের নতুন বাজারে ছাড়া ব্র্যাণ্ড মডেম। এটি ফ্ল্যাশ মডেমের থেকে অনেক স্ট্যান্ডার্ড বলেও উল্লেখ করেন। কিন্তু বাসায় আনার পর চালু করতে গিয়েই প্রথম ধাক্কাটি অনুভব করি। যাহোক শেষ পর্যন্ত ইনস্টল করতে পেরেছি। এরপর প্রত্যেকবার ইন্টারনেট চালু করার সময় ৪ ডিজিটের পিন কোড চাপতে হয় যা আরো একটি বিরক্তির কারণ। এছাড়া উইণ্ডোজ ৮ এ কম্পিউটার চালুর সাথে সাথে সয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইল পার্টনার নামে ইনস্টল হওয়া এই মডেমের সফটওয়্যারটি দুই দফা চালু হয়ে যায়। একটি বন্ধ করে তারপর আরেকটি দিয়ে ইন্টারনেট ক্যানেক্ট করতে হয়।

এরপর মূল সমস্যাটি হলো ইন্টারনেটের গতি নিয়ে। টেলিটকের অফার অনুযায়ী প্রথম মডেম কেনার পর ১০ জিবি ফ্রি ব্যবহারের সুযোগ পাই। কিন্তু সর্ত ছিল এই ১০ জিবির মেয়াদ মাত্র ১০দিন। আর স্পিড ১ থেকে ৫০ কেবিপিএস। খুব কালেভদ্রে ১০০ পার হয়েছিল। সুতরাং বুঝতেই পারছেন এই ১০ জিবির মূল্য কতটুকু। ১০ দিনে ১০ জিবির মধ্যে মাত্র দেড় জিবির মতো খরচ করতে সক্ষম হয়। এ অবস্থা দেখে দুদিন পর ঐ দোকানে গিয়ে বিষয়টি জানালে দোকানদার উল্টা করা কথা শুনিয়ে দিল। বললেন আপনিই প্রথম এ ধরনের অভিযোগ নিয়া আসলেন। আমাদের মডেম বিক্রি করার কথা মডেম বিক্রি করি বাকি সমস্যার জন্য সোজা টেলিটক অফিসে চলে যান। অথবা কাস্টোমার কেয়ারে ফোন করেন। মুখ কালো করে বাসায় ফিরে কাস্টোমার কেয়ারে ফোন করলাম। কিন্তু কোনভাবেই কাউকে পাওয়া গেল না। পরে মনে হলো যে টেলিটক কাস্টোমার কেয়ার শুক্রবার ও শনিবার বন্ধ থাকে। এটা যে একটা লিমিটেড কোম্পানী তা মনে হয় না। রোববার আবার ফোন করি। সুন্দর একটা দেশাত্ববোধক মিউজিক শুনিয়ে বলল টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডে আপনাকে স্বাগতম। এরপর হাবিজাবি বলে বলল আপনার কলটি কাস্টোমার কেয়ারে ট্রান্সফার করা হচ্ছে। কিছুক্ষণ চুপ। তারপর একটি অবজ্ঞার সুরে শব্দ করে বন্ধ হয়ে গেল। যতবার চেষ্টা করি ততবারই একই কাহিনী। এভাবে কয়েকদিন চেষ্টার পর হাল ছেরে দিই।

কাস্টোমার কেয়ারের এ অবস্থার সত্যতা পাওয়া গেছে। আপনিও নিচের নাম্বারগুলো চেষ্টা করে দেখতে পারেন। কোবভাবে যদি কাস্টমার কেয়ার এক্সিকিউটিবকে পেয়ে যান তাহলে নিজেকে একজন সৌভাগ্যবান মনে করবেন।

কাস্টোমার কেয়ারের ফোন নাম্বার:

*General Information: 121    *Help Line [Prepaid]: 01550157750, 01550157760

*Help Line [Postpaid]: 444    *Help Line [Corporate]: 267

বনানী অফিসের ফোন নাম্বার:

(88) 02 9851060, 015 50154444

এরপর ১০ দিন পার হওয়ার পর সংযোগটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবুও হাল ছারিনি। রিচার্জ করার জন্য গেলে একজন দোকানদার জানায় যে ঐটা ফ্রি ছিল বলে অনেক ধীর গতির, এবার রিচার্জ করেন দেখবেন দৌরাচ্ছে। কিছুটা ভরসা পেলাম দোকানদারের এই কথা শুনে। সাথে সাথে ১৭৫০ টাকা দিয়ে ৫১২ কেবিপিএসের আনলিমিটেড প্যাকেজ নিয়ে নিলাম। কিন্তু দৌরানো তো দূরের কথা সেই আগের মতোই কচ্ছোপের গতি। বাধ্য হয়ে রোমযান মাসে অফিস থেকে এক ঘন্টা আগে বের হয়ে তিনটার মধ্যে টেলিটকের বনানী অফিসে হাজির হলাম। তাদের কাস্টোমার কেয়ার এক্সিকিউটিবদের দেখে আপনি মুগ্ধ না হয়ে পারবেনই না! অন্য অপারেটরা যেখানে ২৪/৭ কাস্টোমার কেয়ারের সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে সেখানে টেলিটকের দসা দেখে মনে হয়নি এটি কোন লিমিটেড কোম্পানী।

তাদের সাথে সরাসরি কথা বলে জানা যায় যে এই মডেম সম্পর্কে তারা বিস্তারিত ওয়াকিবহল। কিন্তু কেন তারা এর বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিচ্ছে না তার কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। তারাও বিভিন্নভাবে হুয়াইয়ের ঐ মডেমটি পরীক্ষা করে জানায় যে সত্যিই স্পিড অনেক কম যা ব্যবহার করার মত না। এরপর বলেন, টেলিটকের সাথেই যদি থাকতে চান তবে আপনাকে ফ্ল্যাশ মডেমটিই নিতে হবে। যার দাম ২২০০ টাকা। তার মানে আগের ২২০০ টাকা জলে গেল। তারা কোনভাবেই এই দায়ভার নিতে রাজি না।

উল্লেখ্য, এই কথোপকথোন ভবিষ্যৎ অনুসন্ধানের জন্য রেকর্ড করা হয়েছে!

এবার অ্যাতেল প্রসঙ্গ। ছোট বেলা থেকেই একটু ভিন্নরকম ভাবনা ও চিন্তাধারায় অভ্যস্ত ছিলাম। আদর্শ ছিল আমার বাবা। সবাই যা ভাবত তা একটু ভিন্নভাবে ভাবাই ছিল আমার স্বভাব। রাজনৈতিক বা ধর্মীয় কোন উদ্র ভাবনা না। বরং ভিন্ন ধারার এবং সরল ভাবনাগুলো শুনে অনেকে মজা পেত, সাপোর্ট করত আবার অনেকে বিরক্ত হতো। চালাক হবার অনেক চেষ্টা করেও বাবার মত বোকাই থেকে গিয়েছি। কি সব দেশপ্রেম, হিউমানিটি, সরলতা, সত্যবাদিতা এসব নিয়ে পরে ছিলাম। দেশটা যে চিটার বাটপারে ভরে গেছে সেদিকে কোন খেয়াল ছিলনা। [অফ ট্রাক]

টেলিটকের সাথেই যদি থাকতে চান তবে আপনাকে ফ্ল্যাশ মডেমটিই নিতে হবে। যার দাম ২২০০ টাকা। তার মানে আগের ২২০০ টাকা জলে গেল। তারা কোনভাবেই এই দায়ভার নিতে রাজি না।

যতটুকু মনে পরে ২০০২ সালে আমার বড় ভাইয়ের কল্যাণে প্রথম মোবাইল ফোন হাতে পাই। তখন আমি ইউনিভার্সিটির প্রথম বর্ষের ছাত্র। গ্রামীণ ফোনের সেসময় মনোপলি বিজনেস। স্বাভাবিক কারণে জিপির সিম ব্যবহার করতে হয়েছে। ২০০৪ সালে সরকারের স্পনসর করা একমাত্র মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড চালু হয়। এরপর সম্ভবত ২০০৫ সাল থেকেই খুব কম নেটওয়ার্ক কাভারেজ ও নিম্নমানের সেবা হওয়ার পরও টেলিটকের সিম ব্যবহার করেছি কয়েক বছর। শুধুমাত্র ঐ অ্যাতলামীর কারণে। দেশপ্রেম হাবিজাবি চিন্তা ভাবনা ওসব এখন সত্যিই অ্যাতলামী হিসেবে ব্যাঙ্গ করা হয়। মনে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরার সময় একবার বিদেশী সব পণ্য ব্যবহার করা বর্জন করেছিলাম। কিন্তু বেশিদিন পারিনি। কয়েক মাস পর আমার সেই প্রতিজ্ঞা ভাঙ্গতে হয়েছিল।

এখনও টেলিটকের নেটওয়ার্ক কাভারেজ অনেক দুর্বল। চাহিদা নেই বলে সবখানে রিচার্জ করতে পারা যায় না। জুন ২০১৩ এর হিসেব অনুযায়ী ৬টি মোবাইল ফোন অপারেটরের মধ্যে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের অবস্থান ৬ নম্বরে। ২০১৩ সালের প্রথম দিন মানে ১ জানুয়ারী টেলিটক থ্রিজি সেবার শুভ যাত্রা হয়। আগের নিম্নমানের অভিজ্ঞতায় অনেকটা ইচ্ছে করে বা জিদ করে এই থ্রিজি মডেম কিনতে যায়নি। কিন্তু প্রায় সবার কাছেই এর প্রসংসা শুনতে পাচ্ছিলাম। সর্বশেষ এক সহকর্মীর কাছ থেকে এর প্রসংসা শুনে ঐদিনই অফিস থেকে ফেরার পথে মডেমটি কিনে বাসায় ফিরলাম। কি ভাগ্য আমার! ফ্ল্যাশ মডেমটি হয়ত আসলেই ভালো সার্ভিস দিচ্ছে। কিন্তু কেন আমার ভাগ্যেই এই নকল মডেমটি জুটল? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি আমার মত অ্যাতেল যারা দেশের কথা চিন্তা করে দেশী পণ্য ব্যবহার করতে চায় তাদের জন্য অন্তত মিনিমাম মানটুকু আপনারা বজায় রাখুন। টেলিটক থ্রিজি ইন্টারনেটের জন্য হুয়ায়ের ভূয়া মডেম এখনই বন্ধ করতে যথাযথ উদ্যোগ নিন।

প্রসঙ্গ :
থ্রিজি ইন্টারনেট টেলিটক মডেম মডেম

businessপ্রতিষ্ঠান :
টেলিটক

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Name*

Web

Email*