টুনির প্রেম ও বিয়ে


2017-01-14 13:08:39 40 0

সিলেটে টুনির প্রেম ও বিয়ে নিয়ে তোলপাড় চলছে। টুনি বলছে, প্রেম ও বিয়ে সত্যি। তার সঙ্গে স্ত্রীর মতো বসবাস করেছে যুবক রাফি। কিন্তু প্রেমিক রাফির পরিবার বলছে, সবই মিথ্যা। টুনির সাজানো ফাঁদে পা দিয়ে রাফি এখন অসহায়। সঙ্গ ছেড়ে দিতে এখন দাবি করা হচ্ছে ৩ লাখ টাকা। ভার্ড নামের এনজিও কর্মী পরিচয়দানকারী টুনির পুরো নাম শিউলী আক্তার টুনি (২০)। সে সিলেটের জালালাবাদ থানার চরুগাঁও-এর হেলাল মিয়ার মেয়ে। টুনি সিবিডিপি ভার্ড খাদিমনগরস্থ উপজেলা অফিসের অধীন চরুগাঁও সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমিতির ম্যানেজার। এই পরিচয়ে পেশাগত কারণে তরুণী টুনির সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের রয়েছে যোগাযোগ। এক পর্যায়ে সিলেট নগরীর আম্বরখানা বড় বাজারের ইমাদুর রহমান রাফির সঙ্গে তার পরিচয়। পরিচয়ের সূত্রধরে রাফির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলে টুনি। এই বন্ধুত্ব শেষ পর্যন্ত গড়ায় প্রেমে। এই প্রেম সব বাঁধ ভেঙে এক সময় গড়ায় দৈহিক সম্পর্কে। আর এই সুযোগে গোপনে সে মোবাইলে ছবি ধারণ করতে থাকে রাফির।


The Public Posts টুনির প্রেম ও বিয়ে


এক পর্যায়ে রাফির ছবি দিয়ে তার স্বাক্ষর জাল করে গত ২৫শে ফেব্রুয়ারি নোটারি পাবলিকে গিয়ে রাফির নামে বিয়ের এফিডেভিট করে বসে টুনি। পরে মামলার ভয় দেখিয়ে রাফির কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করে বসে টুনি ও তার সহযোগীরা। টাকা না দিলে নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে জেলে ঢোকানোর হুমকি দেয়া হয় তাকে। রাফি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে টুনি তার সহযোগীদের নিয়ে রাফির বিরুদ্ধে সিলেট মেট্রো ডিবির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারের কাছে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ করে। এই অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে। একপর্যায়ে টুনির অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয় পুলিশের ওই তদন্তে। তদন্তের পর টুনি নোটারি পাবলিকে গিয়ে পাল্টা এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ের এফিডেভিট মিথ্যা, জাল, ভুয়া স্বীকার করে ডিবির কাছে দেয়া অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন জানায়।

টুনি গত ৮ই মে পাল্টা এফিডেভিটে তার ভাষায় জানায়, ‘তার (রাফির) সঙ্গে আমার কোন প্রকার দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন হয়নি। কিংবা সে আমাকে নিয়ে কোন হোটেলে কিংবা কোন কোন স্থানে রাত্রি যাপন করেনি।’ বিগত ২৫/০২/২০১৩ তারিখে মাননীয় নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে সে জানায়, ‘যে বিয়ের শপথনামা সম্পাদন করা হইয়াছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভুয়া। তাকে নিজের মতো করে পাওয়ার আশায় অভিযোগ দায়ের করেছি। ২য় পক্ষদ্বয়ের বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই অথবা রইল না। তারা সম্পূর্ণ নির্দোষ ও নিরাপরাধ।’ এছাড়া গত ১১ই মে সিলেট মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা শাখায় দেয়া এক আবেদনে অভিযোগ প্রত্যাহারসহ ভুল বোঝাবুঝির কারণে অভিযোগ দিয়েছে বলে জানায় টুনি। তা সত্ত্বেও একটি মহলের দ্বারা প্ররোচিত টুনি আবারও তিন লাখ টাকা দাবি করতে থাকে রাফি ও তার পরিবারের কাছে। টাকা না পেয়ে সে সিলেট কোতোয়ালি থানায় দ্বিতীয়বারের মতো অভিযোগ দিলে তদন্তে তা-ও মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

এখন সে তার এক বন্ধুর মাধ্যমে রাফির বিরুদ্ধে ট্রাইবুন্যালে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে বলে জানিয়েছে রাফি ও তার পরিবার। এদিকে, অভিযুক্ত শিউলী আক্তার টুনি গতকাল মানবজমিন-এর কাছে তার অবস্থান তুলে ধরেছে। টুনি জানিয়েছে, রাফি তার জীবনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। রাফিকে সে চিনতো না। রাফি আগে তার পিছু নেয়। একপর্যায়ে প্রেমের প্রস্তাব করে। কিন্তু তাতে টুনি প্রথমে পাত্তা দেয়নি। পরে রাফির ডাকে সে সাড়া দিয়েছিল। এবং এই সাড়া দেয়ার পর মিথ্যা বিয়ের অভিনয় দেখিয়ে রাফি তার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। সিলেটের বাগবাড়ীসহ ঢাকার বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে রাফি তাকে ভোগ করেছে। আর এখন সে সবকিছুই অস্বীকার করছে। টুনি জানায়, ‘রাফির পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা চাওয়ার প্রশ্ন ওঠে না। রাফি নিজেই তিন লাখ টাকার বিনিময়ে সব শেষ করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমার জীবন তো খেলনা নয় যে, টাকা দিয়ে সব শেষ হবে যাবে।’

প্রসঙ্গ :
টুনির প্রেম ও বিয়ে

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Name*

Web

Email*