ভিন্ন অলিম্পিক! ইন্টারন্যাশনাল ইনস্পাইরেশন


2016-12-24 18:20:30 30 0

লন্ডন অলিম্পিককে কেন্দ্র করে ২০০৫ সালে তরুণ প্রজন্মকে খেলাধূলায় আগ্রহী করে তোলার জন্য ইন্টারন্যাশনাল ইনস্পাইরেশন প্রোগ্রাম কাজ শুরু করে। এটি লন্ডন অলিম্পিকের একটি অংশ ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস লিগাসি প্রোগ্রাম। বিশ্বের ২০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশও এই প্রোগ্রামের অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশ চাপ্টারে আসার আগে দেখা যাক এটি আসলে কি ছিল? এর উদ্দেশ্যই বা কি?

২০০৫ সালে লন্ডনকে মনোনিত করা হয় ২০১২ অলিম্পিক আসরের আয়োজন করার জন্য। ঠিক তখন থেকেই ইন্টারন্যাশনাল ইনস্পাইরেশন প্রোগ্রাম যাত্রা শুরু করে। যার উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্বের ২০ টি দেশের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ শিশু ও তরুণ তরুণীদের শারিরিক শিক্ষা ও খেলাধূলার মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়ন করা। এটি চলবে ২০১৪ সাল পর্যন্ত।

নিচে এর উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলো দেয়া হলো:

- বিশেষ করে যারা কখনও খেলাধূলার প্রতি আগ্রহী ছিল না তাদের মধ্যে প্রায় ১ কোটিরও বেশি শিশু ও তরুণ-তরুণী বিভিন্ন খেলাধূলা ও শারিরিক শিক্ষায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পেরেছে।


The Public Posts ভিন্ন অলিম্পিক! ইন্টারন্যাশনাল ইনস্পাইরেশন

দ্যা ডেইলী স্টার


- প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার শিক্ষক প্রশিক্ষক এবং নবীনরা তাদের স্কুল এবং কমিউনিটিতে খেলাধূলা, শারিরিক শিক্ষা ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ লাভ করেছে।

- ইন্টারন্যাশনাল ইনস্পাইরেশন প্রোগ্রামের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে প্রায় ৩৬ টি শারিরিক শিক্ষা বা খেলাধূলা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নীতি, সরকারী বেসরকারী কৌশল বা আইন পরিবর্তন হয়েছে যা পরবর্তী প্রজন্মকে খেলাধূলার প্রতি উৎসাহিত করবে।

- বিশ্বের ২০ টি দেশের ২৭৩টি  ইন্টারন্যাশনাল ইনস্পাইরেশন ওভারসিস স্কুল ‍যুক্তরাজ্যের ২৭৩টি স্কুলের সাথে সংযুক্ত হতে পেরেছে।

এছাড়া  ইন্টারন্যাশনাল ইনস্পাইরেশন প্রোগ্রাম তরুণ প্রজন্মের লেখাধূলার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তনের জন্য রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকদের সাথে কাজ করে যাচ্ছে।

এবার বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আসা যাক:

মেয়েদের ক্ষমতায়ন, প্রতিবন্ধি শিশুদের সুযোগ বৃদ্ধি এবং আন্তসাংস্কৃতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল ইনস্পাইরেশন প্রোগ্রাম বাংলাদেশে কাজ করছে। বন্যা এবং পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে এখানকার শিশুদের সাঁতার শেখানোর জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয় এবং প্রায় ২৫০০০০ শিশু সাঁতার শিখছে যাতে তারা বন্যা পরিস্থিতিতে নিজেদের আত্নরক্ষা করতে পারে।  ইন্টারন্যাশনাল ইনস্পাইরেশন প্রোগ্রাম বাংলাদেশ যুব ও ক্রিড়া মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌথভাবে কাজ করছে এবং এরই মধ্যে অনেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছে এবং নিজেদের এ বিষয়ে সচেতন করতে পেরেছে। খুব শিঘ্রই মানিকগঞ্জ জেলার ১৭২ টি স্কুলে প্রশিক্ষণ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে যাতে প্রায় ৮৬ হাজার ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করবে এবং মানসম্মত শারীরিক শিক্ষা এবং খেলাধূলা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।

উল্লেখযোগ্য সাফল্য:

- এরই মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার শিশু সাঁতার শিখতে পেরেছে যা তাদের বন্যা পরিস্থিতিতে আত্নরক্ষার জন্য সহায়তা করবে।

- ফুটবল, ক্রিকেট এবং ভলিবলসহ ইনডোর এবং আউটডোর খেলায় ১ লাখ ২৫ হাজার তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করেছে।

- প্রায় ২ লাখ অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ খেলাধূলায় মেয়েদের অংশগ্রহণে সরাসরি সহায়তা করেছে।

পরিসংখান অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রত্যেক ৩ জনের ১ জন মেয়ের বিয়ে হয় ১৫ বছরের আগেই। বাল্য বিবাহের এই বিষয়টিকে মাথায় রেখে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্পাইরেশন প্রোগ্রামের আওতায় মেয়েদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে বাল্য বিবাহের হার কমিয়ে আনার জন্য মেয়েদের এবং অভিভাবকদের উৎসাহিত করা হয়েছে। অত্যন্ত নিরাপদ পরিবেশে প্রায় ১১ হাজার মেয়ে শরীরচর্চা, ক্রিকেট এবং ভলিবল ইত্যাদি খেলায় অংশগ্রহণ করেছে। এসব খেলাধূলার মাধ্যমে তাদের আত্নবিশ্বাস অনেক বেড়ে যায় এবং বিশ্বাস করতে শিখে যে তারাও সিন্ধান্ত নিতে পারে তাদের জীবনকে সুন্দরভাবে তৈরি করার জন্য, একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দেবার জন্য।

শেষ কথা

যখন অলিম্পিক ২০১২ এর সব আয়োজন শেষ। ব্রিটিশদের সব জল্পনা কল্পনার অবসান। অলিম্পিককে ঘিরে তাদের বিশ্ব মন্দা কাটিয়ে ওঠার যে স্বপ্ন তার অবসান। সোনা জেতা প্রতিযোগিতার হিসেব নিকেশের অবসান। সব শেষে ফাইনালি লিখতে বসলাম। সবকিছুতেই দেরি করা আমার একটা অভ্যেস। অলিম্পিক গেমস ২০১২ শুরুর সময় লেখাটি লিখব বলে ঠিক করে রেখেছিলাম। কিন্তু হলো না। আলসেমি করে আজ নয়ত কাল এভাবে দুই মাস.. পিছিয়ে গেছি। তারপরও গুগলের কাছ থেকে জানতে পারলাম বাংলায় এ লেখাটা এখনও কেউ লিখে নাই। লিখে ভেললাম।মহা অলস! কোন পত্রিকা অফিসে চাকরি করলে খবর ছিল। প্রথম ওয়্যারনিং, দ্বিতীয় ওয়্যারনিং, তৃতীয় ওয়্যারনিং তার পর রিজাইন লেটার!

উৎস: www.london2012.com

প্রসঙ্গ :
অলিম্পিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্পাইরেশন

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Name*

Web

Email*